ব্যাডমিন্টন কোন দেশের জাতীয় খেলা

আজকের প্রতিবেদন টি হচ্ছে ব্যাডমিন্টন খেলা  নিয়ে ।বহুল প্রচলিত জনপ্রিয় ব্যাডমিন্টন খেলা সর্বপ্রথম শুরু হয়ে ছিল ভারত উপমহাদেশে। ১৮৭০ খ্রিস্টাব্দে ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের ‘ পুনে ‘ সর্বপ্রথম ব্যাডমিন্টন খেলা শুরু হয়েছিল।

প্রকৃত পক্ষে ভারতে ব্রিটিশ গ্যারিসনে ‘ পুনে ‘ নিযুক্ত ব্রিটিশ সেনা , অফিসারগণ এই খেলা উদ্ভাবন করেছিল। শুরুর দিকে , এই খেলাটি পুনে নগরীতেই অধিক পরিমাণ জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। কোন নগরীতে এমন জনপ্রিয়তার কারণে এই খেলাটির প্রথম নামকরণ হয়েছিল ‘ পুনাই ‘।

ইংরেজি সৈনিক ‘ বো-ফোটার ডিউক ‘ খুব আগ্রহী হয়ে ব্যাডমিন্টন খেলা ভারত থেকে ইংল্যান্ডে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে এ খেলাটি ইংল্যান্ডের গ্লুকোস্ট্রাশায়ারে অবস্থিত বো-ফোটের ডিউকের নিজ গ্রামের নামে খেলাটির নামকরণ করা হয় ‘ ব্যাডমিন্টন ‘।

খেলাধূলার ইতিহাসে বো-ফোটের ডিউক ব্যাডমিন্টন খেলার জনকের খ্যাতি লাভ করে। অতঃপর খেলাটি ইংল্যান্ডসহ আধুনিক বিশ্বে ইউরোপের বাহিরের বিভিন্ন দেশে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে । ১৯৩৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের সিলটেন হামে International Badminton Federation [ IBF ] নামে ব্যাডমিন্টনের আন্তর্জাতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠা করা হয়।

১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে ব্যাডমিন্টনের এশিয়া মহাদেশীয় সংগঠন Asian Badminton Federation [ ABF ] প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৬৬ খ্রিস্টাব্দে এই খেলাটি ব্যাডমিন্টন গেম খেলাটি এশিয়ান গেমস অন্তর্ভুক্ত করা হয় ।একটি বহুল প্রচলিত জনপ্রিয় খেলা হিসেবে বাংলাদেশের গ্রামে-শহরে , সকল বয়সের লোকেরা এই খেলাটি খেলে থাকে।

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে গঠন করা হয়  Bangladesh badminton federation [ BBF ] । ১৯৯২ সালে ৫ টি ইভেন্ট সহ ব্যাডমিন্টন খেলাটিকে অলিম্পিকের অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় খেলা = ব্যাডমিন্টন।

ব্যাডমিন্টন হচ্ছে একপ্রকার ক্রীড়া যা একটি জলের সম্মুখে রেকেট দ্বারা শাটল কক টিকে আঘাত করার মাধ্যমে খেলা হয়ে থাকে। এটি একক ভাবে অর্থাৎ উভয় দলের দুইজন খেলোয়াড়ের সাথে কিংবা দ্বৈতভাবে অর্থাৎ উভয় দলের দুইজন খেলোয়াড়ের সাথে 

ব্যাডমিন্টন খেলার নিয়ম-কানুনসমূহ

  • ৪৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ১৭ প্রস্থর কোর্টের সিঙ্গেল খেলা হবে এবং ৪৪ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২০ ফুট প্রস্থর কোর্টের ডবলস খেলা হবে।
  • কোর্টের মাঝে নেট টানিয়ে কোর্টটাকে সমান দুই ভাগে ভাগ করতে হবে । নেটের উচ্চতা হতে হবে পাসপোর্ট এক ইঞ্চি । নেটের পাশে একটি ফ্রন্ট কোর্ট, দুটি সার্ভিস কোর্ট ও দুটি ব্যাক কোর্ট থাকতে হবে।
  • তিন গেমের একটি ম্যাচ হবে এবং ২১ পয়েন্টে গেম সম্পন্ন হবে। ২০ পয়েন্টে ডিউস হলে অর্থাৎ উভয় দলের পয়েন্ট 20 হলে 2 ব্যবধানে গেম শেষ হবে । যেমন ২০ ও ২২ অথবা ২১ ও ২৩। তবে ২৯ পয়েন্টে ডিউস হলে গেম শেষ হবে ৩০ পয়েন্টে।
  • টসের মাধ্যমে খেলা শুরু হবে ।যে দল টস জিতবে সে দল করবে তারা সার্ভ করবে না সাইড বেছে নেবে। টস জয়ী দলে যেটি সিদ্ধান্ত নিবে অন্যটি টর্চ হারা দল পাবে।
  • গেমের শুরুতে রাইট সার্ভিস কোর্ট থেকে সার্ভ করে খেলা শুরু করবে ।পয়েন্ট জোর হলে রাইট সার্ভিস কোর্ট থেকে এবং পয়েন্ট বেজোড় হলে লেফট সার্ভিস কোর্ট থেকে সার্ভিস করতে হবে।
  • সার্ভ করে কোন পয়েন্ট অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত কোন খেলোয়াড়ি সার্ভকোর্ট বদল করতে পারবেন না।
  • সার্ভ করে পয়েন্ট অর্জিত হলে সার্ভার প্রতিবার কোর্ট চেঞ্জ করবেন অর্থাৎ রাইট সার্ভিস কোর্ট থেকে সার্ভ করে পয়েন্ট অর্জিত হলে লেফট সার্ভিস কোর্ট থেকে সার্ভ করতে হবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে চলবে।
  • একই কোর্ট থেকে পরপর দুটি সার্ভ করা যাবে না।
  • প্রথম গেমে বিজয়ী দল পরবর্তী গেমে প্রথমে সার্ভ করবে।
  • কোন গেমে যেকোনো দল 11 পয়েন্ট অর্জন করলে পার্শ্ব পরিবর্তন বা সাইট চেঞ্জ করতে হবে ।
  • কোন খেলোয়াড় রেকেট দ্বারা অথবা নিজে নেট স্পর্শ করতে পারবেন না বা নেট ক্রস করতে পারবেন না ।
  • রেলি শেষে পয়েন্ট অর্জিত হবে । যারা রেলি জিতবেন তারা পয়েন্ট অর্জন করবেন এবং তারাই সার্ভ করবেন।
  • শাটল কক সাইড লাইন স্পর্শ করলেও সঠিক হবে বা শাটল ককটি কোর্টের ভেতরে আছে বলে ধরতে হবে।
  • প্রতি গেমে 11 পয়েন্ট হলে ৬০ সেকেন্ডের বিরতি এবং দুই গেমের মাঝে ১২০ সেকেন্ডের বিরতি নেওয়া হবে।
  • আম্পায়ারের অনুমতি ব্যতীত একজন খেলোয়াড় ম্যাচ চলাকালীন কোর্টের বাইরে যেতে পারবেন না বিরতি সময় ব্যতীত।
  • একটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো জাজ , আম্পায়ার ও রেফারির সমন্বয় পরিচালিত হবে। টুর্নামেন্ট পরিচালনায় রেফারি সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী হবে।

Leave a Comment