শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নোটিশ ২০২২

আমাদের এই প্রতিবেদনটি হচ্ছে আগত সময়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নোটিশ সমূহ নিয়ে বিশ্লেষণ সমূহ ।

  • সপ্তাহে দুদিন করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার কার্যক্রম
  • শিক্ষা বর্ষ শেষ হবে ১৮০ দিনে 

১.শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাপ্তাহিক ছুটি দুই দিন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়

জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সপ্তাহে দুই দিন ছুটি ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এর আগে ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২ খ্রি. তারিখে অনুষ্ঠিত সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানিয়েছিলেন, নতুন কারিকুলামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দুই দিন বন্ধ থাকবে এবং এই কারিকুলামে শিক্ষাদান ২০২৩ সালে থেকে করা শুরু হবে।

তবে দেশে ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ ও জনসংকটের জন্য এখন থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সপ্তাহে দুই দিন বন্ধ থাকবে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাশাপাশি সরকারি আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অফিসগুলোর সময় সকাল আটটা থেকে বিকাল তিনটা পর্যন্ত করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মন্ত্রীসভা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের উপসচিব সাইফুর রহমান খানের স্বাক্ষর করা প্রজ্ঞাপনটি ২২ আগস্ট তারিখে প্রকাশিত হয়। স্কুল কলেজ সপ্তাহে দুই দিন বন্ধে এ প্রজ্ঞাপন অবিলম্ব কার্যকরের আদেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রে নিজ নিজ বিশ্ববিদ্যালয় কে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়েছে।

দেশের স্কুল-কলেজ গুলোর মত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতেও সাপ্তাহিক শুক্রবার ও শনিবার ছুটি থাকবে। ২২ আগস্ট প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই দিন ছুটির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী ডক্টর দীপু মনি আরো জানান সপ্তাহের ৬ দিন পাঠদানে যে কাজ সম্পন্ন হতো তা পাঁচ দিনেই সম্পর্ক করতে হবে। এছাড়া আপাতত বিদ্যালয়ের সময়সূচি পরিবর্তন হচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।

সপ্তাহে দুই দিন ছুটির সরকারি সিদ্ধান্তের পর সোমবার(২২ আগস্ট) বিকালে রাজধানীর ড্যাফোডিল ইন্সটিটিউট অব আইটি প্রদত্ত আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন ডা. দীপু মনি।

শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, “এমনিতেই আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে সপ্তাহে দুদিন ছুটি থাকবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ছুটি দুইদিন করার পরিকল্পনা আমাদের পূর্বেই ছিল। আমরা দুদিন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত দিয়েছি। সপ্তাহে দুই দিন শুক্রবার ও শনিবার বন্ধ থাকবে। কেউ কেউ বলেছে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বন্ধ রাখা যায় কিনা। কিন্তু আজকাল অনেক বাবা-মা কর্মজীবী। তাদের ছুটির সঙ্গে সমন্বয় রেখে বিবেচনা করে শুক্র ও শনিবার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

চলমান বিদ্যুৎ সংকটে এই ছুটি কাজে দেবে কিনা প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, কিছু তো কাজে দেবেই। ঢাকা শহরে যে পরিমাণ যানবাহন চলে তার একটা বিরাট সংখ্যক যানবাহন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো কেন্দ্র করে পরিচালিত হয়।

সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের সময়সূচী পরিবর্তন বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সময়সূচি পরিবর্তন সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে শিক্ষামন্ত্রী জানান, অনেকের বাবা-মা বাচ্চাদের স্কুলে দিয়ে অফিসে যান। সে ক্ষেত্রে সময়সূচি পরিবর্তন করতে পারলে ভালো হতো। তবে খুব বেশি সমস্যার সম্মুখীন হলে পরিবর্তন করবো, আপাতত সময়ে যেটা রয়েছে তাই থাকবে।

২.শিক্ষা মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে শিক্ষা বর্ষ শেষ হবে ১৮০ দিনে 

জানা যাচ্ছে যে, আগামী বছর থেকে নতুন শিক্ষাক্রমে বারদান শুরু করা হবে এই শিক্ষাক্রমে শিক্ষা বর্ষ শেষ হবে মাত্র ১৮০ দিনে। তবে এটি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় বাধা হতে পারে প্রশিক্ষিত শিক্ষকের অভাব। 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে যে, ২০২৩ সালে এক বছরে ছুটি ৭৬ দিন দেওয়া হবে। শুক্রবার এবং শনিবার মিলিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আরও ১০৪দিন বন্ধ থাকবে।

এই বন্ধের মধ্যে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস, জাতির পিতার জন্মদিবস, স্বাধীনতা দিবস, শোক দিবস এবং বিজয় দিবস রয়েছে। সরকারি ছুটির ৫ দিন কর্ম দিবসে অন্তর্ভুক্ত করায় ১৬০ দিনে শিক্ষাবর্ষ শেষ হবে।

এনসিটিবি সদস্য অধ্যাপক মোঃ মশিউজ্জামান জানান, কারিকুলাম বিবেচনায় শিক্ষা কর্মদিবস কমছে না। পূর্বে প্রথম ও দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা শেষ হতে ২৬ দিন সময় লাগতো। তবে সে সময় এখন কমে আসবে। এছাড়া এসএসসি পরীক্ষার্থীদের জন্য ৩৩ কর্ম দিবস প্রয়োজন হতো। এখন এসএসসি পরীক্ষা ১০ বিষয়ে হওয়ায় তা ১০ দিনেই শেষ করা যাবে।

এই কর্ম দিবসে নতুন শিক্ষাক্রমের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম পুরোপুরি শিক্ষকদের উপর নির্ভর করছে। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ইতিমধ্যে বিভিন্ন ধরনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এনসিটিবির এই কার্যক্রম সম্পন্ন করতে শিক্ষকদেরই মূল ভূমিকা পালন করতে হবে।

জানা গেছে যে, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের লোকের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য ৬০০ কোটি টাকার বাজেট নির্ধারণ করা হয়েছে। ইতিমধ্যে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিতে মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে। গত দুই সপ্তাহে ৬৪ জেলার জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ৫২০ জন উপজেলা শাখা কর্মকর্তাকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক মশিউজ্জামান বলেন, ইতিমধ্যে আমরা যারা এখন উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। আগামী ১৭-২২ ডিসেম্বর ৪ লাখ ২০ হাজার শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সারা দেশের শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।

প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়ে গেলে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে কোন বাধা থাকবে না।

Leave a Comment