অলিম্পিক ফুটবল চ্যাম্পিয়ন কোন দল কতবার

আজ আমরা আলোচনা করব অলিম্পিক ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ নিয়ে । প্রতি চার বছর পরপর গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক পেমসে পুরুষদের অন্যতম ফুটবল ক্রীড়া অনুষ্ঠিত হয় ।

শুধুমাত্র ১৮৯৬ ও ১৯৩২ সালের অলিম্পিক গেমসে এই খেলাটি অন্তর্ভুক্ত ছিল না । মহিলাদের ফুটবল খেলাটি আনুষ্ঠানিকভাবে ১৯৯৬ সালের আটলান্টা অলিম্পিকে প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয়েছিল । দলগত খেলা হিসেবে স্বীকৃত অলিম্পিকে ফুটবলের পুরুষ বিভাগে বর্তমান বিভাগ হিসেবে রয়েছে ব্রাজিল ও প্রমিলাদের বিভাগে রয়েছে জার্মানি । 

যেই সাল গুলোতে অলিম্পিকের খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল : 

১৮৯৬ সাল, ১৯০০ সাল , ১৯০৪ সাল, ১৯০৮ সাল, ১৯১২ সাল, ১৯২০ সাল, ১৯২৪ সাল, ১৯২৮ সাল, ১৯৩২ সাল, ১৯৩৬ সাল, ১৯৪৮ সাল, ১৯৫২ সাল, ১৯৫৬ সাল, ১৯৬০ সাল, ১৯৬৪ সাল, ১৯৬৮ সাল, ১৯৭২ সাল, ১৯৭৬ সাল, ১৯৮০ সাল, ১৯৮৪ সাল, ১৯৮০ সাল, ১৯৯২ সাল, ১৯৯৬ সাল, ২০০০ সাল, ২০০৪ সাল, ২০০৮ সাল, ২০১২ সাল, ২০১৬ সাল, ২০২০  সাল , ২০২৪ সাল , ২০২৮ সাল ইত্যাদি ।

পুরুষদের অলিম্পিক ফুটবল প্রতিযোগিতা :

  • প্রতিষ্ঠিত :১৯০০ [১]
  • অঞ্চল : আন্তর্জাতিক (ফিফা)
  •  দলের সংখ্যা : ১৬ (finals) ( ৬টি কনফেডারেশন থেকে)
  • বর্তমান চ্যাম্পিয়ন :  ব্রাজি(২য় শিরোপা )
  • সবশেষে সফল দল : হাঙ্গেরি, গ্রেট ব্রিটেন (প্রত্যেকের ৩টি করে শিরোপা) [ ২০২০ অলিম্পিক শুমারি ] 

ইতিহাস :

প্রথমদিকে আধুনিক অলিম্পিক রিডার বিষয়সূচি হিসেবে উদ্বোধনী আসরে ফুটবল অন্তর্ভুক্ত ছিল না । তারপরও কিছু সূত্র থেকে দাবি করা হয় যে, অনানুষ্ঠানিক ভাবে প্রথম প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় । পূর্ণাঙ্গ তালিকা হারিয়ে যাওয়ায় অনুমতি করা হয় যে দুটো খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ।

এথেন্স একাদশ অটোম্যান সাম্রাজ্য থেকে আগত স্মাইরনা (ইজমির) দলকে হারিয়েছিল । কিন্তু আদৌ এ ধরনের প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছিল কিনা তা স্পষ্ট হয়নি। অলিম্পিক সম্পর্কিত ইতিহাসবিদ বিল ম্যালন বলেছিলেন যে , গ্রীন ক্লাব ও টিনেজ ক্লাবের মাঝে খেলা হয়ে থাকতে পারে ।

তবে ১৮ ৯৬ সালের প্রতিযোগিতা তথ্য অনুসারে এমন কোন ঘটনা ঘটেনি । আমরা মনে করি যে এটি একটি ভুল তথ্য ছিল যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে মুদ্রণ হয়ে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে।  এ ধরনের কোন খেলা অনুষ্ঠিত হয়নি ।

ডেনমার্কের একটি দল স্মাইরনাকে ১৫-০ গোলে হারিয়েছিল । ১৯০০ ও ১৯০৪ সালের অলিম্পিকে প্রদর্শনী ক্রিয়া রূপে ফুটবল স্থান করে নেয় । এছাড়াও ১৯০৬ সালের স্বীকৃতি ছাড়া অলিম্পিক গেমসে অনেকগুলো ক্লাব দল অংশ নিয়েছিল যা আনুষ্ঠানিকভাবে অলিম্পিক ক্রিয়া বিষয় হিসেবে বিবেচিত করা হয়ে ছিল না ।

গ্রেট ,ব্রিটেন, জার্মানি, অস্ট্রেলিয়া ,নেদারল্যান্ড এবং ফ্রান্স ১৯৬৬ সালের অলিম্পিক ফুটবল থেকে ত্যাগ নেয় । ডেনমার্ক , স্মাইরনা, এথেন্স এবং থেসালোনিকি মিউজিক ক্লাব প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহণ করে । চূড়ান্ত খেলায় ডেনমার্ক ৯-০ গোলে এথেন্সকে হারিয়েছিল । 

অলিম্পিকে অংশগ্রহণের জন্য বিশ্বকাপ ফুটবলের মত মহাদেশীয় পর্যায়ে বাছাই পর্বের খেলা অনুষ্ঠিত হয় । অধিকাংশ মহাদেশীয় কনফেডারেশন অনূর্ধ্ব-২৩ প্রতিযোগিতার মতো বিশেষ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে ।

তারপরও ইউরোপীয় পর্যায়ে উয়েফা অনূর্ধ্ব-২১ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং দক্ষিণ আমেরিকা থেকে অনূর্ধ্ব-২০ দক্ষিণ আমেরিকা যুব চ্যাম্পিয়নশিপ প্রতিযোগিতা থেকে দল বাছাই করে । ২০১২ সালের ক্রীড়ায় মহাদেশীয় পর্যায়ে দলের সংখ্যা নিচে বর্ণিত হারে নির্ধারণ করা হয়েছে :

  • ইউরোপ – ৪
  • এশিয়া – ৩.৫
  • আফ্রিকা – ৩.৫
  • দক্ষিণ আমেরিকা – ২
  • উত্তর আমেরিকা – ২
  • ওশেনিয়া – ১

মহিলাদের প্রতিযোগিতা :

নারীদের প্রতিযোগিতায় জাতীয় পর্যায়ের পূর্ণাঙ্গ দল নিয়ে অংশগ্রহণ করে । এতে বয়সের কোন বাধা ধরা নিয়ম দেয়া হয়নি । স্বাগতিক দেশের জন্য একটি স্থান বরাদ্দ রাখা হয়েছে ।

বিশ্বকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতার মতো প্রত্যেক মহাদেশীয় অঞ্চল থেকে নির্দিষ্ট সংখ্যক দল বরাদ্দ রাখা হয় । উয়েফায় পূর্ববর্তী বছরের বিশ্বকাপের সফলতম দলগুলোকে নির্বাচিত করা হয়।

১৯৯৬ সালের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিকের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো মহিলাদের ফুটবল ক্রীড়া বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয় । এতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র স্বর্ণপদক ও ২০০০ সালে নরওয়ের কাছে হেরে গিয়ে  রৌপ্যপদক লাভ করেছিল ।

পরবর্তীকালে ২০০৪ ২০০৮ ও ২০১২ সালে দলটি টানা স্বর্ণপদক লাভ পারঙ্গমতা দেখায় । ২০১২ সালের অলিম্পিকে মহাদেশীয় পর্যায়ে নিম্ন বর্ণনা কৃত দল বন্টন করা হয়: 

  • ইউরোপ : ৩
  • এশিয়া : ২
  • আফ্রিকা : ২
  • দক্ষিণ আমেরিকা : ২
  • উত্তর আমেরিকা : ২
  • ওশেনিয়া : ১

বিজ্ঞাপন :

এশিয়ার জাপান রয়েছে অলিম্পিকের গ্রুপ-ডি’ তে । জাপান টাইমসের প্রতিবেদক অ্যান্ড্র ম্যাকক্রিডি’র তথ্য অনুসারে জাপানের ফুটবলের লম্বা ইতিহাস ও ঐতিহ্য রয়েছে । তিনি বলেন: “১৯৬৪ সালে টোকিও যখন অলিম্পিক এর আয়োজন করে তখন জাপানিরা দৃশ্যত প্রথম উচ্চমানের ফুটবল ম্যাচে সরাসরি উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছিল । চার বছর পরে মেক্সিকো অলিম্পিকে তামার পদক জয় করে নিয়েছিল জাপান” । জাপানের অলিম্পিক দলে তারকাদের চেয়ে তরুণ খেলোয়াড়দের বেশি জায়গা হয়েছে ।

বর্তমানে বিশ্ব ফুটবলের সেরা দল হচ্ছে স্পেন । এই দল অলিম্পিকে গ্রুপ-ডি’ তে খেলেছে । স্পেনের অলিম্পিক দলে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের সঙ্গে রয়েছেন 2011 সালের অনূর্ধ্ব ২১ ইউরো চ্যাম্পিয়ন দলের কয়েকজন খেলোয়াড় । বিশ্বকাপ ,ইউরো কাপ জয়ের ধারাবাহিকতায় এ বছরে অলিম্পিক স্বর্ণপদকীয় জিততে পারে এই দলটি।

Leave a Comment