t20 ক্রিকেট বিশ্বকাপ কে কতবার নিয়েছে

খুব শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আইসিসি t20 ক্রিকেট বিশ্বকাপ । তাইতো আইসিসি টুর্নামেন্ট নিয়ে আমাদের জল্পনা-কল্পনার শেষ নেই ।

আইসিসি t20 ওয়ার্ল্ড কাপের প্রথম আসর অনুষ্ঠিত হয় ২০০৭ সালে এবং প্রথম ওয়ানডে সাউথ – আফ্রিকা টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিল । আর শেষে ছিল অস্ট্রেলিয়া , নিউজিল্যান্ড , পাকিস্তান , অস্ট্রেলিয়া , জিম্বাবুয়ে , বাংলাদেশ , ইংল্যান্ড , ইন্ডিয়া এবং শ্রীলংকার টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ।

২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক সাউথ – আফ্রিকার মুখোমুখি হয়েছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ উদ্বোধনী ম্যাচে ১৩ দিন পর ২৪ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হয় টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ ।

টি-টুয়েন্টি ফাইনালে রায় ইন্ডিয়া এবং পাকিস্তান । ইন্ডিয়া টস জিতে ব্যাট করে সংগ্রহ করে ১৫৭ রান জবাবে পাকিস্তান ১৫২ রান করতে সক্ষম হয় । মাত্র পাঁচ রানের ব্যবধানে ফের প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয় ইন্ডিয়া ।

তবে মাত্র পাঁচ রানের ব্যবধানে ইন্ডিয়ার কাছে পরাজিত হলেও টুর্নামেন্ট সেরা প্লেয়ার নির্বাচিত হন পাকিস্তানের শহীদ আফ্রীদি । এছাড়াও টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী হল অস্ট্রেলিয়া l অস্ট্রেলিয়া ৩৬৫ রান সংগ্রহ করে ।

২০০৭ সালের টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার পর ২০০৯ সালে অনুষ্ঠিত হয় টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপের দ্বিতীয় টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছিল ।

ইংল্যান্ড ২০০৭ এর মত ২০০৯ ওয়ার্ল্ড কাপ টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করার সুযোগ পেয়েছিল । তবে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণ করা দুটি দল জিম্বাবুয়ে এবং কেনিয়া বাদ পড়েছিল এবং নতুন করে সুযোগ পেয়েছিল নেদারল্যান্ড এবং আয়ারল্যান্ড ।

টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৯ সালের এর জুন মাসে । উদ্বোধনী ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার ১৬ দিন পর একুশে জুন অনুষ্ঠিত হয় টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ টি । টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছিল পাকিস্তান ।

শ্রীলংকা ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে ১৩৮ রান সংগ্রহ করে । শ্রীলংকা জবাবে মাত্র ২ উইকেট হারিয়ে লক্ষ্যে পৌঁছে যায় পাকিস্তান । টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপের দ্বিতীয় আসারও প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে পাকিস্তান টুর্নামেন্ট সেরা প্লেয়ার নির্বাচিত হয় ।

পাকিস্তানের অমরপুর ত্রিপুরা টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করতে সক্ষম হয় । ২০০৯ সালের ওয়ার্ল্ড কাপ অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র এক বছর পর ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত হয় আইসিসি টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপের তৃতীয় আসরটি এবং টুর্নামেন্টের আয়োজন করার সুযোগ পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ।

২০১০ সালে মোট ১২ টি দেশ নিয়ে টুর্নামেন্টের আয়োজন করা হয়েছিল । টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হয় আয়ারল্যান্ড । রানের বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছিলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজ ।

২০১০ সালের টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছিল অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ড । টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপের তৃতীয় আসরেপ্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ইংল্যান্ড ।

২০১২ সালে টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপে মোট ১৪ দল নিয়ে শ্রীলংকায় অনুষ্ঠিত হয় । টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো ১৮ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হয় জিম্বাবুয়ে ।

৪০ দিনের শেষে অনুষ্ঠিত হয় টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপ ২০১২ সালের ফাইনাল ম্যাচ । শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে জিম্বাবুয়ে । ২০১৪ সালে টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপ আয়োজন করার সুযোগ পায় বাংলাদেশ ।

বাংলাদেশের ঢাকা , চট্টগ্রাম ও সিলেট স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টির আয়োজন করা হয়েছিল । বাংলাদেশ , অস্ট্রেলিয়া , ইংল্যান্ড , ইন্ডিয়া , নিউজিল্যান্ড পাকিস্তান , সাউথ-আফ্রিকা , শ্রীলংকা , ওয়েস্ট ইন্ডিজ , জিম্বাবুয়ে , আয়ারল্যান্ড , আফগানিস্তান , নেপাল , নেদারলান্ডস অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশর প্রতিপক্ষে আফগানিস্তানকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে যাত্রা শুরু করে বাংলাদেশ ।

বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ইন্ডিয়া , ওয়েস্ট ইন্ডিজ , অস্ট্রেলিয়া , পাকিস্তান টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যায় । বাংলাদেশে ৬ এপ্রিল শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপ ২০১৪ ফাইনাল ম্যাচ ।

ইন্ডিয়া এবং শ্রীলংকার ফাইনাল ম্যাচ টস হেরে ব্যাট করতে নামে ইন্ডিয়া । শ্রীলঙ্কা টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপের পঞ্চম আসরে প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে । শ্রীলঙ্কা টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ৩১৯ রান সংগ্রহ করে টুর্নামেন্ট সেরা প্লেয়ার নির্বাচিত হন বিরাট কোহলি ।

সর্বোচ্চ উইকেট শিকারের টুর্নামেন্টের সেরা নির্বাচিত হন ইমরান তাহির । ৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হয় টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপের ষষ্ঠ তম আসর । ২০১৬ সালে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের হোস্ট হওয়ার সুযোগ পায় ভারত ।

বেঙ্গালুরু চেন্নাই ধর্মশালা মুম্বাই দিল্লি এবং কলকাতার ইডেন গার্ডেন সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয় সেই আসরের ম্যাচ । ক্রিকেট স্টেডিয়াম নাগপুরের জিম্বাবুয়ের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্ট এর যাত্রা শুরু করে ভারত ।

৩ এপ্রিল কলকাতার ইডেন গার্ডেনে অনুষ্ঠিত হয় ২০১৬ সালে ওয়ার্ল্ড কাপ ফাইনাল ম্যাচটি । সেই আসরের ফাইনালে ইংল্যান্ড এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফাইনাল ম্যাচে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১৫৫ রান সংগ্রহ করেন ইংল্যান্ড ।

১৫৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য প্রয়োজন ছিল ১৯ রানের । ইংল্যান্ডের জয় নিশ্চিত ছিল তবে ইংল্যান্ডকে কাঁদিয়ে টি-টোয়েন্টি ওয়ার্ল্ড কাপের ষষ্ঠ আসরে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হয়ে গৌরব অর্জন করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ । টুর্নামেন্টের ম্যাচের সেরা প্লেয়ার নির্বাচিত হন বিরাট কোহলি এবং টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী ।

এখন পর্যন্ত যতগুলো দেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছে প্রায় সবগুলো দেশি একবার করে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কেবলমাত্র ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোন একটি দেশ যারা কিনা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দুই বার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ।

  • ভারত ২০১৭ সালে
  • পাকিস্তান ২০০৯ সালে
  • অস্ট্রেলিয়া ২০১২ সালে
  • শ্রীলংকা ২০১৪ সালে
  • ইংল্যান্ড ২০১৬ সালে চ্যাম্পিয়ন হয় ।

Leave a Comment