পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট কিভাবে নিবেন

পুলিশ ক্লিয়ার অ্যান সার্টিফিকেট আমাদের জন্য অতি প্রয়োজনীয় একটি বিষয় বিশেষ করে যারা বিদেশ চলে যাবেন অথবা বিদেশে অবস্থানরত আছেন। বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে বা বিদেশে চাকুরির ক্ষেত্রে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট এর  প্রয়োজন হয়।

পুলিশ ক্লিয়রেন্স সার্টিফিকেট এর অর্থ হলো , পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট তাকে দেওয়া হয় যার বিরুদ্ধে থানায় কোন অভিযোগ নেই বা অতীতে ছিল না ।

বিদেশে অবস্থান : বিদেশে অবস্থানকারী যে কোনো ব্যক্তির পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি যে দেশে অবস্থানরত আছেন সে দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস / হাইকমিশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কর্তৃক পাসপোর্টের তথ্য পাতার সত্যায়িত কপিগুলো তার পক্ষে করা আবেদন করতে হবে।

পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট পেতে কি করতে হয়

  • পুলিশ ক্লিয়ারেন্স করতে কি কি কাগজপত্র প্রয়োজন ?
  • কত টাকা খরচ হবে ?
  • কতদিন পর সার্টিফিকেট পাওয়া যাবে ?

আপনি বিদেশ যাত্রি হলে আপনার অবশ্যই পাসপোর্ট এর তিন মাসের বেশি মেট থাকতে হবে এবং পাসপোর্ট এর রঙিন ফটোকপি ( ১ কপি ) রাখতে হবে ।

এনআইডি কার্ড বা জন্ম নিবন্ধন লাগবে। পাসপোর্ট এবং এনআইডি কার্ড এর ছবিতে প্রথম শ্রেণীর ব্যক্তির স্বাক্ষর লাগবে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কর্তৃক প্রদত্ত সার্টিফিকেট লাগবে। একটি বিদ্যুৎ বিল ফটোকপি লাগবে।উপরোক্ত উল্লেখিত কাগজপত্রগুলো কমপ্লিট হয়ে গেলে আপনাকে অনলাইনে সাবমিট করতে হবে।

সবকিছু সাবমিট করার পরে একটি অনলাইনে কপি বের করবেন। তারপর সেখান থেকে আপনি একটি চালানের রিসিভ বের করবেন। কম্পিউটার থেকে যদি চালানো রেসিপি টা বের করেন তাহলে কিন্তু আপনি যে সবকিছু আবেদন করেছেন বা সাবমিট করেছেন তা একদম পুরোপুরি ঠিক আছে এবং এখানে ভুল হওয়ার কোন সম্ভাবনা নেই।

এছাড়াও আপনি যদি লিখে আপনার চালান ফর্মটা জমা দিতে চান ব্যাংকে তবে সেক্ষেত্রে একটু লক্ষ্য রাখবেন চালানের যে বারকোডটা আছে সেটিতে । অবশ্যই এবার কোডটি লক্ষ্য করে এবং নাম ,ঠিকানা, পাসপোর্ট , নাম্বার সবকিছু ঠিক আছে কিনা সেটি খেয়াল করবেন। তারপর যাবেন সোনালী ব্যাংকে । সোনালী ব্যাংকে গিয়ে আপনি 500 টাকা চালানোর জন্য জমা দিবেন।

তারপর আপনি ঐখান থেকে একটি  সিল মারা একটি রিসিভ পাবেন। সেই রেসিপিটি আপনার পাসপোর্ট এর ফটোকপিবা এনআইডির ফটোকপি এসব কাগজপত্র আছে তার সাথে সংযুক্ত করে নেবেন। যে স্থানীয় বর্তমান ঠিকানার থানার আন্ডারে আছেন সেই থানায় চলে যাবেন। সেখানে আপনার কাগজপত্র সমূহ জমা দিবেন। জমা দেওয়ার পর আপনার ফোনে তিন থেকে চারদিন পর এসএমএস আসবে অথবা কল আসবে।

সেক্ষেত্রে আপনাকে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করা হবে যে আপনার নাম ঠিকানা পাসপোর্ট অথবা এনআইডির বিষয়পত্র অর্থাৎ আপনাকে কনফার্ম করা হবে। অতঃপর আপনি ৭ থেকে ১৫ দিনের ভেতরেই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স সার্টিফিকেট হাতে পেয়ে যাবেন। এখন সেক্ষেত্রে সামান্য কিছু ভুল ত্রুটির কারণে আরো বেশি কিছুদিন দেরি হয়ে যায় কিন্তু সে ক্ষেত্রে আপনার ভয় পাওয়ার কোন দরকার নেই।

সেক্ষেত্রে আপনি যেই কম্পিউটার দোকান থেকে আবেদন করেছেন সেখানে গিয়ে দেখে আসতে পারেন যে আপনার এই কাজটি কতটুকু এগিয়েছে । যেমন থানায় রয়েছে নাকি এসপি অফিসে আছে নাকি ডিসি অফিসে আছে কিনা বা কোন ভুলত্রুটির কারণে রিজেক্ট করে দিয়েছে কিনা সেগুলো দেখতে পারবেন।

আবেদন বাতিল হলে করণীয়

আপনার ক্লিয়ারেন্স আবেদনটি যদি কোন সমস্যার জনিত কারণে বাতিল হয়ে যায় তাহলে আপনি যে একাউন্ট থেকে ক্লিয়ারেন্সের জন্য আবেদন করেছেন সে একাউন্টেই দেখতে পারবেন যে আপনার চালু আছে নাকি রিজেক্ট করে দেওয়া হয়েছে। যদি রিজেক্ট করে দেওয়া হয়ে থাকে তবে সেখানে আপনি স্ট্যাটাসে দেখতে পাবেন যে বলা আছে অ্যাপ্লিকেশন রিজেক্টটেড ।

অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় আপনি ডকুমেন্ট গুলা প্রদান করেছেন বা যে সব ডকুমেন্ট দিয়ে আবেদন করেছেন সেগুলো সামান্য ভুলের কারণে তো আপনাকে উচিত বিসিএস ক্যাডার সম্পন্ন কর্মকর্তাদের দিয়ে আপনার ডকুমেন্টস সমূহ সত্যায়িত করা। অর্থাৎ নবম গ্রেডে যারা রয়েছে প্রশাসন কর্মকর্তা অর্থাৎ সরকারি কর্মকর্তা তাদের দিয়ে সত্যায়িত করা।

এরপরে সমস্যাটি চলে আসতেছে চালান জমা দেওয়ার ক্ষেত্রে অথবা চালানের পেমেন্ট করার ক্ষেত্রে । আপনি যে কম্পিউটার থেকে আবেদন করেছেন সে সবকিছু ভালোভাবে সাবমিট করেছে কিনা তাও খেয়াল করতে হবে । উক্ত সমস্যা গুলো ঠিক থাকলে এবং সম্পূর্ণভাবে সাবমিট করা হয়ে গেলেই আশা করা যায় আর কোন সমস্যা হবে না।

Leave a Comment