নিজেই নিজের ভোটার আইডি কার্ড দেখবো কিভাবে

একটি বিশেষ কাজ যা আমরা সময় বাঁচানোর জন্য অনলাইনে করে থাকি। সেটি হচ্ছে আমাদের আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র যার সকল প্রকার কাজ আমরা এখন অনলাইনে করতে পারি। আগের সময়ের মতো আমাদের ইউনিয়ন অফিস গিয়ে সময় নষ্ট করতে হয় না। বর্তমানে অনলাইন আমাদের আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র হাতে পাবার সুব্যবস্থা করে দিয়েছে। 

আমরা হয়তো অনেকেই জানিনা যে, অনলাইন থেকে কিভাবে আমরা আইডি কার্ড তুলব? কিভাবে আমরা  আমাদের আইডি কার্ডের জন্য অনলাইনে আবেদন করব? কিভাবে সংশোধন করব আইডি কার্ডের বিভিন্ন ভুলত্রুটিগুলো? অনেকের মধ্যেই এইসব ধরনের প্রশ্ন আসতে পারে এবং অনেকেরই বিশেষ প্রয়োজন থাকতে পারে।

তাই আমি আজকে আপনারা কিভাবে অনলাইনে নিজে নিজে আইডি কার্ড সংগ্রহ করবেন এবং ভুল ত্রুটিগুলো সংশোধন করবেন ইত্যাদি বিষয়ে আলোচনা করবো।

এইসব বিষয়ে ভালোভাবে জানতে ও বুঝতে চাইলে আপনার প্রয়োজন একটু ধৈর্য ধরে আমার সম্পূর্ণ ব্লগটি পড়তে হবে। আইডি কার্ডের সকল ধরনের কাজের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এর অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে কিভাবে লগইন করবেন? 

অনলাইনে আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্রের যেকোনো ধরনের কাজ করতে চাইলে আপনাকে প্রথমে নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইটে যেতে হবে এবং আইডি কার্ড সংক্রান্ত যে কোন কাজ করতে গেলে আপনাকে প্রথমে এই ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। আসুন জেনে নেই কিভাবে নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইটে রেজিস্ট্রেশন করবেন।

সবার প্রথমে আপনাকে যেতে হবে নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ, অতঃপর সেখানে ক্লিক করে নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইটে যেতে হবে। নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইটে যাবার পর আপনি আপনার আইডি কার্ড সম্পর্কিত সকল প্রকার কাজ করতে পারবেন। প্রথমে রেজিস্ট্রেশন এ ক্লিক করতে হবে। অতঃপর আপনাকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে।

এখন আপনি দেখতে পারবেন যে, এখানে কিছু লেখা দেখাচ্ছে এবং আপনাকে ভালভাবে লেখাগুলো পড়ে নিতে হবে, যাতে আপনার আইডি কার্ড সংক্রান্ত কাজ করতে কোন প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়। তাই আগে থেকেই সতর্ক ভাবে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।

অতঃপর আপনি দেখতে পারবেন আপনার সামনে জাতীয় পরিচয় পত্র ফরম নম্বর লেখার জন্য একটি বক্স এসেছে। তার নিচে দেখতে পারবেন জন্ম তারিখ লেখার জন্য তিন, মাস ও বছর এর জন্য তিনটি বক্স রয়েছে। প্রথম বক্সটিতে আপনার জন্ম সনদের কার্ডের নাম্বারটা পাঠিয়ে দিতে হবে।

তারপরে আপনার জন্ম সনদ অনুযায়ী সঠিক জন্ম তারিখটি দিয়ে দেবেন। তারপরে দেখবেন একটি রি-ক্যাপচা এসেছে যা আপনাকে পরীক্ষামূলক ভাবে দেওয়া হবে। সেখানে হিজিবিজি কোন কিছু লেখা থাকবে এবং আপনি সেটি ভালোভাবেই বোঝার পর নিচের খালি বক্সটিতে বসিয়ে দিয়ে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করবেন।

সাবমিট বাটনে ক্লিক করার পর আপনার আইডি কার্ড সংক্রান্ত সকল সঠিক তথ্য গুলো দিয়ে বাকি ঘরগুলো কমপ্লিট করবেন। পরে দেখতে পারবেন আপনাকে একটি QR কোড দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আপনাকে এনআইডি ওয়ালেট নামে একটি অ্যাপ আপনার মোবাইলে ইন্সটল করতে হবে এবং সেটাতে যা যা বলা রয়েছে সেগুলোকে আপনি নির্দেশনা অনুযায়ী মেনে এনআইডি কার্ডটা স্ক্যান করলেই আপনার অ্যাকাউন্ট কমপ্লিট হয়ে যাবে।

বর্তমান সময়ে আইডি কার্ড আমাদের জন্য মূল্যবান সম্পদ হিসেবে ধরতে পারেন। এটি দ্বারা আমাদের রাষ্ট্রীয় পরিচয় প্রকাশ পায় ৷ আমরা যে একটি দেশের নাগরিক এটিই তার প্রমান। প্রমাণ যে কোনো সময় প্রায় প্রত্যেকটি ক্ষেত্রেই দিতে হয়। আইডি কার্ড ছাড়া আপনি চলাফেরা বা কোন ধরনের অ্যাকাউন্ট বিভিন্ন কাজ করার আশাও করতে পারবেন না।

এনআইডি কার্ড অথবা জাতীয় পরিচয় পত্র এই সব কিছু আপনি যে জায়গাতে যান না কেন, যেমনঃ মনে করেন, আপনি বিবাহ করবেন সেক্ষেত্রেও আপনাকে অবশ্যই আইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্র দিতে হবে। অথবা ধরেন আপনি কোন চাকরি করতে যাবেন সে ক্ষেত্রেও আপনাকে আপনার এনআইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্রটি জমা দিতে হবে।

তাছাড়াও বিদেশে যাওয়ার জন্য পাসপোর্ট, ব্যাংক একাউন্ট, কলেজ ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার জন্য এমন করে প্রায় প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে আপনার এনআইডি কার্ড বা জাতীয় পরিচয় পত্রের বিশেষ প্রয়োজন রয়েছে। আমাদের একটি মূল্যবান সম্পদ হলো এনআইডি কার্ড। 

তাই এনআইডি কার্ডের যদি ভুল ত্রুটি থাকে তাহলে অবশ্যই সেটা যত দ্রুত সম্ভব সংশোধনের ব্যবস্থা করবেন এবং যদি কারো এনআইডি কার্ড না থাকে তাহলে খুব দ্রুত সম্ভব একটি এনআইডি কার্ড বানিয়ে ফেলার চেষ্টা করবেন। আইডি কার্ড সংক্রান্ত যেকোন বিষয়ে তথ্য আপনারা নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইটে গেলে পেয়ে যাবেন।

আশা করি উপরোক্ত বর্ণনাকৃত তথ্যসমূহ আপনাদের ভালো লেগেছে। পোস্টটি থেকে আপনি যদি উপকৃত হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই আপনাদের বন্ধুদের সাথে শেয়ার করুন এবং তাদেরকেও এই তথ্যগুলো থেকে উপকৃত হওয়ার সুযোগ করে দিন। শেষ পর্যন্ত থাকার জন্য ধন্যবাদ।

Leave a Comment