জে এস সি পরীক্ষার সর্বশেষ খবর

চলমান বছরও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে না। রোববার(৫ই জুন, ২০২২) এই বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কার ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড.দীপু মনি।

৫ই জুন, ২০২২ সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী এ সিদ্ধান্তের সম্মন্ধে বলেছেন। বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের আওতাধীন বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে নিয়োগ দেওয়ার বিষয় নিয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান যে, ২০২৪ সালে নতুন শিক্ষাক্রম অষ্টম শ্রেণিতে বাস্তবায়ন শুরু হবে। নতুন শিক্ষাক্রমে জেএসসি পরীক্ষা থাকবে না। সুতরাং আগামী বছরও (২০২৩ সালে) জেএসসি পরীক্ষা নেওয়া হবে না।

করোনা সংক্রমণের কারণে গত দুই বছর জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা হয়নি এবং চলতি বছরও যে এই পরীক্ষা হচ্ছে না, সেটি পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নানাভাবে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন।

এ সম্পর্কে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের নতুন চেয়ারম্যান তপন কুমার সরকার কয়েক মাস পূর্বে জানিয়েছিলেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সময়সূচি যেভাবে রয়েছে, তাতে এই দুই পাবলিক পরীক্ষা শেষ করে আগামী নভেম্বরে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করা প্রায় অসম্ভব। 

তিনি উল্লেখ করেছিলেন, জুনে এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে। এ পরীক্ষা শেষ করে আগামী আগস্টে শুরু হবে এইচএসসি পরীক্ষা, যা শেষ হবে অক্টোবরে। এরপর নভেম্বরে জেএসসি পরীক্ষা নেওয়া অসম্ভব। তবে এ বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেবে। আর শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এ পরীক্ষা হচ্ছে না।

সাধারণত, প্রতিবছরের নভেম্বরে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা হতো। কিন্তু করোনার সংক্রমণের কারণে ২০২০ সালের মার্চে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং টানা প্রায় ১৮ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের কারণে গত দুই বছর এ পরীক্ষাগুলো হয়নি। এর মধ্যে ২০২০ সালে পরীক্ষা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের ওপরের ক্লাসে উত্তীর্ণ করা হয়েছিল। 

গত বছর অবশ্য সংক্ষিপ্ত পাঠ্যসূচিতে কম বিষয়ে বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা হয়েছিল। এবারও অষ্টম শ্রেণিস্তরের শিক্ষার্থীদের জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার পরিবর্তে বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে।

JSC( জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট) সম্পর্কিত কিছু তথ্যঃ 

জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট বা সংক্ষেপে জেএসসি, বাংলাদেশের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য প্রযোজ্য একটি গণপরীক্ষা যা মাদ্রাসার ছাত্রদের জন্য প্রদানকৃত সমমানের সনদকে বলা হয় জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট বা জেডিসি। 

এই পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট প্রদান করা হয় এবং তাদের নবম শ্রেণীতে ভর্তির সুযোগ দেয়া হয়। এছাড়া এ পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে জুনিয়র বৃত্তি প্রদান করা হবে। ২০১০ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো সাধারণ স্কুল ও মাদ্রাসার ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষার আয়োজন করা হয়।

জেএসসি/জেডিসি এর কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্যঃ 

জেএসসি চালু হওয়ার আগে, এর জায়গায় একটি পরীক্ষা নেওয়া হতো (তখন মাধ্যমিক বৃত্তি বা জুনিয়র স্কলারশিপ নামে পরিচিত)। এটি একটি স্বেচ্ছাসেবী বৃত্তিমূলক পরীক্ষা ছিল এবং বাধ্যতামূলক ছিল না।

২০১২ সাল থেকে, জেএসসি পরীক্ষার প্রশ্নে একাধিক (৬টি এবং ১১টি এর মধ্যে, যার মধ্যে ৪টি থেকে ৭টি সেটের উত্তর দিতে হবে) চারটি প্রশ্নের সেট রয়েছে, প্রতিটিতে শিক্ষার্থীর জ্ঞান, বোঝাপড়া, প্রয়োগ এবং উচ্চতর ক্রম চিন্তা করার দক্ষতা থাকা প্রয়োজন।

এই পদ্ধতিকে সৃজনশীল (স্থানীয়ভাবে সৃজনশীল বলা হয়) প্রশ্ন বলা হয়েছে। দেশের দরিদ্র ও নিঃস্ব মানুষ যাতে পরীক্ষায় ভালো করতে পারে সেজন্য জেএসসিও চালু করা হয়েছে। পরীক্ষার্থীরা, ব্যর্থ হলে, পরবর্তী বছরে অন্যান্য নিয়মিত পরীক্ষার্থীদের সাথে পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি প্রদান করা হয়। 

JDC( জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট) সম্পর্কিত কিছু তথ্যঃ

জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট বা জে.ডি.সি বা জেডিসি হল জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট সমমানের একটি সরকারী পরীক্ষা যা মাধ্যমিক বোর্ড বাংলাদেশের অধীনে নেওয়া হয়। এই পরীক্ষায় অংশ নিতে হলে ৮ম শ্রেণীতে বাংলাদেশ শিক্ষা বোর্ড থেকে অনুমোদিত মাদ্রাসা থেকে শিক্ষার্থীদেরকে টেস্ট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে এবং বোর্ড কর্তৃক নির্ধারিত তারিখে মূল পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদেরকে অংশ গ্রহণ করতে হয়। 

জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরীক্ষা ২০১০ সাল হতে চালু হয় । জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা বাংলাদেশের সমগ্র দেশব্যাপী আটটি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়। 

বিগত বছরগুলোর যে সকল সময়ে ও কারণে জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষা স্থগিত করে দেওয়া হয়েছিলঃ

১. ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় বুলবুলের কারণে ৯, ১১ ও ১২ নভেম্বর তারিখে অনুষ্ঠিতব্য সকল জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষা সাময়িক স্থগিত করা হয়েছিল এবং পরীক্ষাগুলো ঘূর্ণিঝড়ের পরে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

২. বিশ্বব্যাপী চলমান করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২০ সালের নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা আয়োজিত হয়নি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় অ্যাসাইনমেন্টভিত্তিক মূল্যায়নের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করেছিল।

৩. ২০২০ সালের মতই বিশ্বব্যাপী চলমান করোনাভাইরাস মহামারির কারণে ২০২১ সালের নিম্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষা আয়োজন করা হয় নি। শিক্ষা বোর্ডের নির্দেশ অনুযায়ী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ স্ব-ব্যবস্থাপনায় অ্যাসাইনমেন্ট ভিত্তিক মূল্যায়ন এবং ৫০ নম্বরের মধ্যে তিন বিষয়ের (বাংলা, ইংরেজি, গণিত) উপর ভিত্তি করে বার্ষিক পরীক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করার পর নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করা হয়েছিল।

Leave a Comment