নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ খবর

এমপিও হচ্ছে monthly pay order ( মাসিক বেতন আদেশ ) এর সংক্ষিপ্ত রূপ। সরকারিভাবে যে মাসিক বেতনা দেশ হয় সেটাই হলো এমপিও। যে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন ভাতা সরকারি পক্ষ থেকে প্রদান করা হয়।

অর্থাৎ এমপিও ভুক্ত করনের মাধ্যমে বেসরকারি স্কুল কলেজ ও মাদ্রাসা বিভিন্ন ধরনের নিয়োগ পদোন্নতি ও শিক্ষক কর্মচারীদের মাসিক বেতন কার্যকর করা হয়।

এমপিওভক্ত করনের সুবিধা সমূহ :

(১) এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের তাদের মূল বেতনের সম্পূর্ণই সরকারি কোষাগার থেকে প্রাপ্ত হবেন। তাছাড়া বড় বড় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মূল বেতনের শতকরা একটি অংশ শিক্ষকরা পেয়ে থাকে। কিন্তু এটি সাধারণত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের উপর নিয়ন্ত্রণাধীন থাকে।

(২) এমপিওভক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের মত প্রবৃদ্ধি মূল বেতনের ৫% কিন্তু বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা যথাক্রমে ১০০০ টাকা ও ৫০০ টাকা । উৎসব ভাতা ও বৈশাখী ভাতা যথাক্রমে ২৫% ও ২০% করে প্রদান করা হয়ে থাকে যা সরকারি কর্মচারী বা কর্মকর্তা দের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন । শুধু মাত্র এমপিও ভুক্ত হওয়ার পরেই চাকরি স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা হবে ।

নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে :

শিক্ষার প্রতিষ্ঠান গুলো মান্থলি কে অর্ডারের বহির্ভূত অর্থাৎ কোনো নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক বা  কর্মচারীরা সরকারি কোষাগার থেকে কোন বেতন-ভাতা পায় না । নন এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীগণ ওই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফান্ড থেকে বেতন পেয়ে থাকে ।

এক কথায় নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা সরকারি কোনো সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন না । NTRC এর মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক একজন নন এমপিও শিক্ষক বা খন্ডকালীন শিক্ষক অপেক্ষা অগ্রাধিকার পেয়ে থাকেন।নতুন অর্থবছরের শুরুর দিকে বেসরকারি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

চলতি সময়ের মধ্যেই শেষ হয়েছে আবেদন প্রক্রিয়া এবং আবেদনগুলোর যাচাই বাছাই করা । এদিকে ফেব্রুয়ারি মাসে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেয়া হতে পারে বলে আভাস দিয়েছিলেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির যাচাই বাছাই কমিটির একসদস্য বলেন অনলাইনে আবেদন নেয়ায় কাজ অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে।

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিও যাচাই বাছাই কমিটির আহবায়ক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফৌজিয়া জাফরিন বলেন, “আশা করছি ফেব্রুয়ারি মাসে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেয়া হতে পারে।” এমপিওভুক্তি পেতে কতগুলো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান আবেদন করেছে , এমন প্রশ্নে তিনি বলেন , “সব মিলিয়ে সমপিওভুক্তির জন্য প্রায় ৬ হাজার আবেদন জমা হয়েছে।

এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক এবং ডিগ্রি ভরের ৩ হাজার এবং কারিগরি, ভোকেশনাল ও মাদ্রাসা স্তরের এমপিওর জন্য ৩ হাজার । ” এর আগে গত বছরের ৭ই নভেম্বর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আবেদন যাচাই বাছাই করার জন্য ৯ সদস্যের কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ।

একই সঙ্গে এই কমিটি কে সহায়তা করতে আরো চার সদস্যের একটি উপকমিটি গঠন করা হয় । ৯ সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ( মাধ্যমিক ২ ) ফৌজিয়া জাফরীন।

কমিটিতে আছেন শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর ( ব্যানবেইস ) মহাপরিচালক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের কলেজ শাখার যুগ্ম সচিব , বেসরকারি মাধ্যমিক (১) শাখার উপসচিব , মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখার পরিচালক , ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক , মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের বাজেট শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব ব্যানবেইসের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট এবং বেসরকারি মাধ্যমিক ত শাখার উপসচিব ।

এ কমিটিকে সহায়তা করবে ব্যানবেইসের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট মো . আবু তাহের খানের নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি । এ কমিটিতে আছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক ব্যানবেইসের প্রোগ্রামার এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পোগ্রামার ।

গত বছরে ৩০ সেপ্টেম্বর বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ( স্কুল ও কলেজ ) এমপিওভুক্ত করতে গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ আবেদন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। বিজ্ঞপিতে ১০ থেকে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত এমপিওভুক্তির জন্য বলা হয়ে ছিল । ২০১৯ সালে ২ হাজার ৬২২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওতক করার পর গত বছর আর তা করা হয়নি ।

নতুন অর্থবছরের বাজেট বরাদ্দের যে প্রস্তাব শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো হয়েছে , তাতে নতুন প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির জন্য ২৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার কথা বলা হয়েছে । এর মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের জন্য ২০০ কোটি এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের জন্য ৫০ কোটি টাকা ।

Leave a Comment