প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক লোন নিয়ম

বিগত চল্লিশ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রবাসে গমন করেছে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ প্রবাসী এবং তা প্রতিনিয়ত বৃদ্ধি পেয়েই চলেছে। দেশের মোট জিডিপিতে রেমিট্যান্সের অবদান প্রায় ১২ শতাংশ। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে যে সকল মানুষ দিনের পর দিন এত কষ্ট করে প্রবাসে জীবনযাপন করে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে তাদের জন্য আমাদের দেশের সরকার কি করছেন? 

প্রবাসীদের এই সকল ভূমিকার প্রতি দৃষ্টিপাত রেখেই গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেন। প্রবাসীদের সকল সুযোগ-সুবিধা সহকারে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সকল ধরনের সাহায্য করে থাকে। আজকে আমরা আলোচনা করবো প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কি, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক কর্তৃক বিশেষ ঋণসুযোগ-সুবিধার বিস্তারিত তথ্যসমূহ নিয়ে।

বাংলাদেশের অনেক নাগরিক রয়েছেন যারা বিদেশে উপার্জনের জন্য যেতে জমিজমা, ভিটেমাটি বিক্রি করে দেন। এভাবে নিজের জমি বা অন্যান্য সম্পদ বিক্রি করার ফলে অনেকেই বিপদগ্রস্ত হয়েছেন। তাই, বিদেশে উপার্জনের করার জন্য যেতে বাংলাদেশের কোনো নাগরিককে জমিজমা এবং কোনো ধরনের সম্পদ যাতে বিক্রি করতে না হয় সে দিকে লক্ষ্য রেখে বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক (Probashi Kallyan Bank) একটি বিশেষ ঋণ বা লোন (Loan) প্রদান করে থাকে।

আপনি যদি নিজেকে এই লোন নেওয়ার জন্য উপযুক্ত মনে করেন এবং এই লোন আপনার প্রয়োজন হয় তাহলে ব্যাংকে সরাসরি আবেদন করুন। প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের ‘অভিবাসন ঋণ’ নেওয়ার জন্য কোনো ধরনের প্রসেসিং ফি দিতে হবে না বা কোনো ধরনের চার্জ দিতে হয় না।

ঋণ গ্রহণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র বা ডকুমেন্টসঃ

  • বিনামুল্যে সরবরাহকৃত ব্যাংকের নির্ধারিত আবেদন ফরমে আবেদন দাখিল করতে হবে।
  • ঋণ আবেদনকারীর ৪ কপি পাসর্পোট সাইজের ছবি দিতে হবে।
  • জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি • বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানাসহ পৌরসভা/ ইউনিয়ন পরিষদের সার্টিফিকেট এর ফটোকপি দিতে হবে।
  • আবেদনকারীর পাসপোর্ট, ভিসার কপি ও ম্যানপাওয়ার স্মার্ট কার্ডের ফটোকপি এবং লেবার কন্ট্রান্ট পেপার (যদি থাকে, বাধ্যতামূলক নয়) দিতে হবে।
  • ২ (দুই) জন জামিনদারের ১ (এক) কপি করে পাসপোর্ট সাইজের ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানাসহ পৌরসভা/ইউনিয়ন পরিষদের সার্টিফিকেট এর ফটোকপি দিতে হবে।
  • জামিনদারদের যে-কোনো ১ জনের স্বাক্ষরকৃত ব্যাংকের ৩ টি চেকের পাতা সংগ্রহ করে দিতে হবে।
  • ঋণ গ্রহণের আগে উক্ত ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখায় একটি হিসাব খুলতে হবে।

ঋণ সীমাঃ

  • নতুন ভিসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৩.০০ (তিন) লক্ষ টাকা পাবে।
  • রি-এন্ট্রি ভিসার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২.০০ (দুই) লক্ষ টাকা পাবে।

ঋণের মেয়াদঃ

  • নতুন ভিসার ক্ষেত্রে ঋণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ০৩ (তিন) বছর পর্যন্ত।
  • রি-এন্ট্রি ভিসার ক্ষেত্রে খণের মেয়াদ সর্বোচ্চ ০২ (দুই) বছর পর্যন্ত।

ধাপের পরিশোধসূচীঃ

  • ২ (দুই) মাস গ্রেস পিরিয়ড বাদ দিয়ে মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করা যাবে।

সুদের হারঃ

  • প্রবাসীন কল্যাণ ব্যাংকের অভিবাসন ঋণের সুদের হার ৯% (সরল সুদ) নেওয়া হবে।

সেবা প্রদানের সময়সীমাঃ

যথাযথ কাগজপত্রসহ আবেদনকারীর আবেদন করার পর তা যাচাই ও অন্যান্য প্রক্রিয়াকরণ শেষ হতে ৭ কর্মদিবসের বেশি লাগে না। এ ক্ষেত্রে অভিবাসন ঋণ কর্মদিবিসের মাথায় লোন পেয়ে যাবেন।

কত টাকা চার্জ লাগে?

প্রবাসী কল্যান ব্যাংকের অভিবাসন ঋণ বা লোন গ্রহণের জন্য কোনো ধরনের সার্ভিস চার্জ নেওয়া হয় না। তাই, আবেদন থেকে শুরু করে লোন পাওয়া পর্যন্ত সমস্ত প্রক্রিয়াকরণ বিনামূল্যে করা হয়।

চলমান বছরের প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক সম্পর্কিত কিছু তথ্যঃ

শ্রমিক হিসেবে বিদেশে যেতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানোরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

চলমান বছরের ৭ই ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন, মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম।

এর আগেও সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার মন্ত্রীদের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যেসব শ্রমিকরা বিদেশে কাজের জন্য যাবেন, তারা যেন অবশ্যই প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় কিংবা সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর থেকে জেনে-শুনে বিদেশে যান। কোনোভাবেই তারা যেন দালাল প্রকৃতির কারোর খপ্পরে না পড়েন।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম আরও জানান, এসময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শ্রমিকদের বিদেশে যেতে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার জন্য তাগিদ দিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বিদেশে গেলে ঝুঁকি বা বিপদগ্রস্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে না। কারণ ব্যাংক থেকে ঋণ নিলে বিদেশে যাওয়ার বিষয়ে সবকিছু যাচাই-বাছাই করেই তারা ঋণ প্রদান করে থাকেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। দেশের সকল প্রকার টেলিভিশন, রেডিও ও পত্রপত্রিকার মাধ্যমে দেশের মানুষকে এ বিষয়েগুলো জানানো নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দেশের সকল নাগরিকদের সচেতন হতে হবে। 

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ব্রিফিংয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বিদেশে যাওয়ার আগে শ্রমিকরা যেন অবশ্যই মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট উইংকে অবগত করার পর বিদেশে যায় এবং বিদেশে যাওয়ার জন্য যেন কেউ কোনো প্রকার অতিরিক্ত টাকা না দেয়।

Leave a Comment