স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসার আজকের খবর

দেশের সব স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা জাতীয়করন করা, যে সকল ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি বন্ধ ছিল, সেগুলো পুনরায় চালু করা ও কোডবিহীন প্রতিষ্ঠান গুলোর কোড প্রদান করাসহ সাত দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসা শিক্ষক ঐক্যজোট। সংগঠনের নেতারা বুধবার (৩১ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে এ দাবি জানায়।

সংগঠনের সমন্বয়কারী কাজী ফয়েজুর রহমান জানান, ১৯৯৪ সালে একই পরিপত্রে প্রাইমারি ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা একই ভাবে ৫০০ টাকা ভাতা প্রদান করা হতো। অতঃপর ধাপে ধাপে প্রাইমারির বেতন বৃদ্ধি করা হয় এবং সর্বশেষ ২০১৩ সালে ২৬১৯৩ টি প্রতিষ্ঠান জাতীয়করণ করা হয়েছিলো।

কিন্তু ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলোকে জাতীয়করণ করা দূরের কথা, এমপিওভুক্তও করা হয়নি। তাই আজকের মানববন্ধনের মাধ্যমে অবিলম্বে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা জাতীয়করণ, যে সকল ছাত্র-ছাত্রীদের উপবৃত্তি বন্ধ ছিল, সেগুলো পুনরায় চালু করা ও কোডবিহীন প্রতিষ্ঠান গুলোর কোড প্রদান ৭ দফা মেনে নিতে সরকারের কাছে অনুরোধ জানান তিনি।

তিনি আরও জানান, আমরা শিক্ষকরা কয়েক বছর ধরে আন্দোলন করে চলছি, কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ দিকে দৃষ্টিপ্রদান করেনি। আমরা পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করে চলছি। আমরা সব জায়গায় অবহেলিত হয়ে আসছি।

শিক্ষকদের প্রদত্ত সাত দফা দাবি গুলো নিম্নরূপঃ

  • প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা সমূহ জাতীয়করণ করতে হবে।
  • স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার নীতিমালা-২০১৮ বাস্তবায়ন করতে হবে।
  • স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার পাঠদানের অনুমতির স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করতে হবে।
  • রেজিষ্টেশনপ্রাপ্ত কোড বিহীন স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাগুলো মাদরাসা বোর্ডের কোডের অন্তর্ভূক্তকরণ করতে হবে।
  • স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার শিক্ষার্থীদের বন্ধ হওয়া উপবৃত্তি পুনরায় চালু করার ব্যবস্থা করতে হবে।
  • প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মতো স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসায় এক জন অফিস সহায়কের পদ সৃষ্টি করতে হবে।
  • স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার ৫ম শ্রেণি সমাপনী পরীক্ষার অটোপাশের প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে।

স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষক ঐক্যজোটের সমন্বয়কারী কাজী ফয়েজুর রহমানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দিয়েছিলেন, স্বাধীনতা মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ তেলোয়াত হোসেন খাঁন, স্বাসিপের অর্থ সম্পাদক অধ্যক্ষ মাহবুবুর রহমান।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, ১,৯৫১ টি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের স্কুলসমূহ এবং উচ্চ মাধ্যমিক ও ডিগ্রি কলেজসমূহকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। আর কারিগরি ও মাদরাসা পর্যায়ের ৬৬৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত হয়েছে ।

পূর্বে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির জন্য এমপিও যাচাই-বাছাই কমিটি প্রাথমিক তালিকা করে। এই তালিকাটি পাঠানো হয় শিক্ষামন্ত্রীর অনুমোদনের জন্য। শিক্ষামন্ত্রীর অনুমোদনের পর এটি পাঠানো হয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন শেষে এই এমপিওভুক্তি চূড়ান্ত করা হয়।

গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর (২০২১) বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল ও কলেজ) এমপিওভুক্ত করতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। বিজ্ঞপ্তিতে এমপিওভুক্তির জন্য আবেদন করতে বলা হয় ১০ থেকে ৩১ অক্টোবর ২০২২ তারিখ পর্যন্ত।

দেশে এমপিওভুক্ত স্কুল,কলেজ ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা সংখ্যাঃ

৬ জুলাই ২০২২ইং তারিখের আগে সারা দেশে ২৬,৪৪৮টি এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠান ছিল। সর্বশেষ ২০১৯ সালে ১,৬৫১টি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতাভুক্ত করা হয় এবং ৯৮৮টি কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের আওতাভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল। 

২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বেসরকারি নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে (স্কুল-কলেজ) এমপিওভুক্ত করার জন্য আবেদন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ১০ অক্টোবর থেকে ৩১ অক্টোবর ২০২১ তারিখ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয়েছিল।

সে অনুযায়ী মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতায় ৪,৭২৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৪,৬২১টি আবেদন পাওয়া যায়। এরপর সকল মানদণ্ডে ১,৯৪১টি প্রতিষ্ঠান যোগ্য বলে বিবেচিত করা হয়েছিল।

সেগুলোর মধ্যে নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৬৩০টি, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১,০৬৩টি (৬ষ্ঠ-১০ম ১০৩টি, ৯ম-১০ম ৯৬০টি), উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১৩১টি (৬ষ্ঠ-১২শ ০৪টি, ৯ম-১২শ ০৩টি ও ১১শ-১২শ ১২৪টি), কলেজ(১১শ-১২শ) ৯৯টি, ডিগ্রি কলেজ ১৮টি।

এছাড়াও ৩২টি উপজেলাধীন যোগ্যতা অর্জন করতে না পারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অনুচ্ছেদ-২১ এর বিধান অনুযায়ী ২৯টি, অনুচ্ছেদ-২২ এর বিধান অনুযায়ী বিশেষ ক্ষেত্রে শর্ত শিথিল করে বাছাই করা ১০টি, হালনাগাদ স্বীকৃতির শর্ত শিথিল করে ২০১৯ সাল পর্যন্ত একাডেমিক স্বীকৃতি আছে এমন ৭১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল।

সব মিলিয়ে ৬৬৬টি নিম্নমাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১,১২২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১৩৬টি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ১০৯টি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ, ১৮টি ডিগ্রি কলেজ সহ মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের আওতায় ২ হাজার ৫১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল।

কারিগরি ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের আওতায় কারিগরিতে ২,৫৪৪ এবং মাদরাসায় ১,৩৫৯টি সহ মোট ৩,৯০৩টি আবেদন পাওয়া যায়। এর মধ্যে কারিগরিতে ২৯৫ ও মাদরাসায় ৩৫৩টি সহ মোট ৬৪৮টি প্রতিষ্ঠান যোগ্য বলে বিবেচিত হয়েছিল।

আর কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নীতিমালার ৩৬ ধারা এবং স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নীতিমালার ২২ ধারা প্রয়োগ করে ১৭ প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে কারিগরি ও স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের আওতায় ৬৬৫ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিও করা হয়েছে।

 এর মধ্যে এসএসসি ভোকেশনাল অথবা দাখিল ভোকেশনাল ৯৭টি, এসএসসি বিজনেস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড টেকনোলোজি ২০০টি, ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার ২টি, দাখিল মাদরাসা ২৬৪টি, আলিম মাদরাসা ৮৫টি, ফাজিল মাদরাসা ৬টি, কামিল মাদরাসা ১১টি

Leave a Comment