পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে

আপনারা অনেকে আছেন যারা পাসপোর্ট করতে গিয়ে অনেক ঝামেলার সম্মুখীন হয়েছেন বা অনেক দালালের সম্মুখীন হয়েছেন যাদের দ্বারা আপনারা প্রতারিত হয়েছেন। আজকের আলোচনায় আপনাদের বলব একটি পাসপোর্ট আবেদন করতে প্রয়োজনীয় তথ্য সামগ্রী এবং যেভাবে আবেদন করলে আপনাদের আবেদন বাতিল হওয়ার কোন সম্ভাবনা থাকবে না। শেষ পর্যন্ত পড়ুন , আশা করি উপকৃত হবেন।

১. প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও তথ্যসামগ্রী সমূহ 

প্রথমত আপনাদের আবেদন পত্রের সারংশের প্রিন্ট কপি থাকতে হবে। অর্থাৎ আপনি যখন কোন কম্পিউটার দোকানে আবেদন করবেন তখন তারা আপনাকে একটি আবেদন পত্রের সারংশের প্রিন্ট কপি দিয়ে দিবে।

 যে কাগজটিতে একটি বারকোড দেয়া থাকবে, সেই কাগজটিকে আপনাদের অনেক সাবধানতার সাথে রাখতে হবে এবং যখন আপনারা পাসপোর্ট অফিসে যাবেন তখন সেখানে এটি আপনার প্রয়োজনে আসবে।

২. সনাক্তকরণ নথি প্রিন্ট কপি অর্থাৎ জাতীয় পরিচয় পত্র অথবা জন্ম নিবন্ধন নং 

দ্বিতীয়ত আপনাদের যে কাগজের প্রয়োজন সেটি হচ্ছে সনাক্তকরণ নথির প্রিন্ট কপি/জাতীয় পরিচয় পত্র/জন্ম নিবন্ধন নং। বর্তমানে ই-পাসপোর্টে জন্ম নিবন্ধনের মাধ্যমে কোনভাবেই রেজিস্ট্রেশন করা সম্ভব না। তাই আপনাদের জাতীয় পরিচয় পত্রের মাধ্যমে পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে হবে।

এক্ষেত্রে আপনাদের যদি জাতীয় পরিচয় পত্র না থাকে, তাহলে আপনি আপনার বাবা অথবা মায়ের জাতীয় পরিচয় পত্র ব্যবহার করে পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করতে পারবেন। এতে আপনার কোন প্রকার সমস্যার সম্মুখীন হতে হবে না।

৩.পেমেন্ট স্লিপ

আপনি যখন পাসপোর্ট এর জন্য আবেদন করবেন, তারপরে আপনাকে একটি ব্যাংকে গিয়ে পাসপোর্টে আবেদনের জন্য নির্ধারিত যে ফি থাকবে সেটি পেমেন্ট করতে হবে। পেমেন্ট করার পরে আপনি ব্যাংক থেকে একটি পেমেন্ট স্লিপ পাবেন এবং এটি পাসপোর্ট এর আবেদনের ক্ষেত্রে লাগবে।

৪. পূর্ববর্তী পাসপোর্ট পেজের প্রিন্ট কপি(যদি থাকে)

আপনার যদি পূর্ববর্তী কোন পাসপোর্ট থাকে, তাহলে সেটিকে আপনার সাথে করে নিয়ে যেতে হবে এবং ডাটা পেজে একটি প্রিন্ট কপি করে নিতে হবে।

৫. সরকারি চাকরিজীবীদের ক্ষেত্রে GO/NOC

আপনি যদি সরকারি চাকরিজীবী হয়ে থাকেন তাহলে আপনাকে অবশ্যই GO/NOC এর তথ্যসামগ্রী লাগবে।

৬. তথ্য সংশোধনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

আপনি যদি আবেদন করতে গিয়ে কোথাও ভুল তথ্য দিয়ে ফেলেন তাহলে আপনার আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় সকল কাগজপত্র প্রমাণস্বরূপ নিয়ে যেতে হবে।

৭. আবেদনপত্রের প্রিন্ট কপি

আপনি যখন কম্পিউটার দোকান থেকে আবেদন করবেন তখন তারা আপনাকে একটি আবেদন পত্রের প্রিন্ট কপি দেবে এবং সেই প্রিন্ট কপিটি অবশ্যই আপনাদের সাথে করে নিয়ে যেতে হবে।

৮. সার্টিফিকেটের কপি

আপনি যদি একজন শিক্ষার্থী হয়ে থাকেন তাহলে এটি আপনার জন্য প্রযোজ্য। শিক্ষার্থীরা বাহিরের দেশগুলোতে পড়ালেখার জন্য পাসপোর্ট এর আবেদন করে থাকেন। সেক্ষেত্রে অবশ্যই আপনার সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেটের কপি সাথে রাখতে হবে। এক্ষেত্রে আপনি যদি অনার্সের শিক্ষারত অবস্থায় আবেদন করতে চান, তাহলে আপনাকে অবশ্যই একটি ছাড়পত্র জমা দিতে হবে।

৯. চেয়ারম্যান প্রদত্ত সার্টিফিকেট

আপনি যে আপনার ইউনিয়নের একজন নাগরিক সেটি প্রমাণ করতে আপনার স্থানীয় যে চেয়ারম্যান রয়েছেন তার কাছ থেকে একটি সনদপত্র নিতে হবে এবং এটির অরজিনাল সনদপত্র আপনাকে সাথে করে নিয়ে যেতে হবে ও ফটোকপি জমা দিতে হবে।

১০. বিদ্যুৎ বিলের কপি

আপনাকে অবশ্যই আপনার বাসার একটি বিদ্যুৎ বিলের কপি সাথে নিয়ে যেতে হবে এবং সেটি হতে হবে আপনি যখন আবেদন করতে যাবেন সেই সময় থেকে শেষ তিন মাসের মধ্যে যে কোন একটি বিদ্যুৎ বিলের কাগজ।

পাসপোর্ট এর আবেদনের জন্য বা সম্পন্ন হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় খরচ , প্রয়োজনীয় সময় ও পাসপোর্ট ডেলিভারি হতে যে সময় লাগবে তার তথ্য সামগ্রী

ডেলিভারির ধরনসময় সীমা
নিয়মিত ডেলিভারিনিয়মিত ডেলিভারিটি হচ্ছে আপনি যখন আপনার ছবি ও ফিঙ্গারপ্রিন্ট দিয়ে আসবেন , তার ১৫ থেকে ২১ দিনের ভিতরে আপনি পাসপোর্টটি হাতে পেয়ে যাবেন। কিন্তু যদিও বলা হয় আপনাকে ১৫ থেকে ২১ দিনের ভিতরে দেয়া হবে, এখানে আপনার সর্বোচ্চ ২৫ থেকে ৩০ দিন সময় লাগতে পারে পাসপোর্টটি হাতে পাওয়ার জন্য।
এক্সপ্রেস ডেলিভারিএটি ৭ থেকে ১০ দিন এর ভেতরে দেওয়া হয় এমন উল্লেখ থাকলেও এটি আপনাকে পাসপোর্টটি দেওয়ার জন্য ১৫ থেকে ২০ দিন সময় নিতে পারে।
সুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি আপনার যদি সকল কাগজপত্র, তথ্যসামগ্রী শতভাগ নির্ভুল থাকে তাহলে আপনি ২ দিনের ভিতরেও পাসপোর্টটি হাতে পেয়ে যেতে পারে।
সময় সীমা

পাসপোর্টের ধরন

  • ৪৮ পৃষ্ঠা এবং ৫ বছর মেয়াদ
  • ৪৮ পৃষ্ঠা এবং ১০ বছরের মেয়াদ
  • ৬৪ পৃষ্ঠা এবং ৫ বছর মেয়াদ
  • ৬৪ পৃষ্ঠা এবং ১০ বছরের মেয়াদ

উপরোক্ত বর্ণনার মধ্যে ৪৮ পেজের পাসপোর্টটি হচ্ছে যারা খুব কম যাতায়াত করবেন তাদের জন্য।

এক্ষেত্রে আপনি যদি বেশি যাতায়াত করে থাকেন তাহলে আপনি ৬৪ পেজের পাসপোর্টটি নিতে পারেন।

দ্বিতীয়ত ক্ষেত্রে পার্থক্যটি হচ্ছে পাঁচ বছরের জন্য পাসপোর্ট এবং ১০ বছরের জন্য পাসপোর্ট। আপনি যদি পাঁচ বছরের জন্য পাসপোর্ট গ্রহণ করেন তাহলে পরবর্তীতে রিনিউ করার জন্য আপনার একটু ঝামেলাও হতে পারে। আর আপনি যদি ১০ বছরের জন্য নেন তাহলে আপনাকে অনেক কম খরচে এবং কোন ঝামেলা ছাড়া একসাথে ১০ বছরের জন্য করে নিতে পারেন।

আবেদনের জন্য খরচ সমূহ

প্রকার বা ধরণনিয়মিত ডেলিভারিএক্সপ্রেস ডেলিভারিসুপার এক্সপ্রেস ডেলিভারি
৪৮ পৃষ্ঠা এবং ৫ বছর মেয়াদ৪,০২৫ টাকা৬,৩২৫ টাকা৮,৬২৫  টাকা
৪৮ পৃষ্ঠা এবং ১০ বছর মেয়াদ৫,৭৫০ টাকা৮,০৫০ টাকা১০,৩৫০ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা এবং ৫ বছর মেয়াদ৬,৩২৫ টাকা৮,৬২৫ টাকা১২,০৭৫ টাকা
৬৪ পৃষ্ঠা এবং ১০ বছর মেয়াদ৮,০৫০ টাকা১০,৩৫০ টাকা১৩,৮০০ টাকা
আবেদনের জন্য খরচ সমূহ

Leave a Comment