এলার্জির ঔষধ বেশি খেলে কি হয়

আমাদের প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের এলার্জি জনিত সমস্যার কারণে ভুগতে হয়। তাই আমাদের প্রতিদিন এলার্জির ঔষধ খাওয়ার প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু আমরা জানিনা এলার্জির ঔষধ বেশি খেলে কি হতে পরে? 

এলার্জির ঔষধ বেশি খেলে অনেক ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে এবং এই সকল ঔষধের বিভিন্ন ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া রয়েছে। তাই এলার্জির ওষুধ বেশি খাওয়া কোনোভাবেই ঠিক হবে না। আজকে আমরা আলোচনা করবো, কিভাবে এলার্জির ঔষধ বেশি খেলে সমস্যা হতে পারে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের মতে এলার্জির সমস্যা না থাকলে এন্ট্রি এলার্জির ঔষধ বেশি পরিমাণে খাওয়া ঠিক হবে না এবং এই ঔষধ খাওয়ার অভ্যাস কিছু কিছু ক্ষেত্রে কোনোভাবেই নিরাপদ নয়।

এন্টিহিস্টামিন এর বেশ কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। কোষ্ঠকাঠিন্য, গলা- মুখ শুকিয়ে যাওয়া, হৃদস্পন্দনের গতি বেড়ে যাওয়া, মূত্রত্যাগের সমস্যা, এমনকি প্রেসার অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে ফেলতে পারে এই এন্টিহিস্টামিন এর পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার প্রভাবে।

তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো হৃদরোগ অর্থাৎ ডায়াবেটিস যদি থাকে এইসব ওষুধ সেবনের বিষয়ে খুব সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে এবং যে কোন ঘুমের ওষুধ অথবা এলার্জির ঔষধ খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

কারণ মোটামুটি ঔষধ, এলার্জির ওষুধ, এন্টিহিস্টামিন জাতীয় ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে । তাই আমাদের অবশ্যই এলার্জির ঔষধ খাওয়া যাবে না।

এলার্জির ঔষধ খাওয়ার নিয়মঃ

  • ট্যাবলেট প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য এবং ১২ বছরের বেশী বয়সের শিশুদের জন্য দৈনিক দুইটি করে ৬০মি.গ্রা. ট্যাবলেট অথবা দৈনিক একটি করে ফেক্সো ১৮০মি.গ্রা. ট্যাবলেট সেবন করতে পারবে।
  • ৬ থেকে ১১ বছর বয়সের শিশুদের জন্য প্রতিদিন দুইবার করে ৩০মি.গ্রা. ফেক্সোফেনাডিন অথবা দৈনিক একটি ৬০মি.গ্রা. ট্যাবলেট সেবন করতে পারবে।
  • ওরাল সাসপেনশন ২- ১১ বছর বয়সের শিশুদের জন্য দৈনিক ২ বার করে ৩০ . ( ৫মি.লি.) সাসপেনশন সেবন করতে পারবে।
  • ২- ১১ বছর বয়সের শিশুদের জন্য দৈনিক ২ বার করে ৩০মি.গ্রা.(৫মি.লি.) সাসপেনশন সেবন করতে পারবে।
  • ৬ মাস থেকে ২ বছরের কম বয়সের শিশুদের জন্য দৈনিক ২ বার করে ১৫মি.গ্রা.(২.৫মি.লি.) সাসপেনশন সেবন করতে পারবে।

এলার্জির প্রাথমিক চিকিৎসাঃ

বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের জন্য অ্যালার্জি একটি অসহনীয় রোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অ্যালার্জি, হাঁচি-কাশি থেকে শুরু করে খাবার, ওষুধের তীব্র প্রতিক্রিয়া এবং শ্বাসকষ্ট পর্যন্ত হতে পারে।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে, অ্যালার্জি সামান্য অসুবিধার কারণ হয়, অন্যদের ক্ষেত্রে, তারা জীবনকে দুর্বিষহ করে তোলে। ঘর পরিষ্কার করা হয়? হঠাৎ হাঁচি ও তারপর শ্বাসকষ্ট বা ফুলের গন্ধ বা গরুর মাংস, চিংড়ি, ইলসা ও গরুর দুধ এসব খেলে ত্বকে চুলকানি বা লালভাব দেখা দিয়ে থাকে। এই সংবেদনশীলতাকে আপনার অনুমান করা উচিত। আসুন অ্যালার্জি কী, কেন এটি ঘটে থাকে এবং কীভাবে এটি এড়ানো যায় সে সম্পর্কে আলোচনা করা যাক।

প্রতিটি মানুষের শরীরের একটি করে ইমিউন সিস্টেম আছে। যদি কোনো কারণে এই রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থায় ব্যাঘাত ঘটে যায় তবে অ্যালার্জি দেখা দেয় অ্যালার্জি আমাদের শরীর সবসময় ক্ষতিকারক পদার্থ (যেমনঃ পরজীবী, ছত্রাক, ভাইরাস এবং ব্যাকটেরিয়া) প্রতিরোধ করে রোগ প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে থাকে। এই প্রচেষ্টাটিকে অনাক্রম্যতা বলা হয়।

কিন্তু কখনও কখনও আমাদের শরীর এমন অনেক কিছুকে প্রতিরোধ করার চেষ্টা করে থাকে যা সাধারণত ক্ষতিকারক হয় না। সাধারণত ক্ষতিকর নয় এমন জিনিসের প্রতি শরীরের অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াকে অ্যালার্জি বলা হয়।

বাহ্যিক পদার্থ যা অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে তাকে অ্যালার্জেন বলা হয়। অ্যালার্জিরহল, অ্যালার্জিজনিত সর্দি বা অ্যালার্জিক রাইনাইটিস, নাক চুলকায়, সর্দি বা উপসর্গগুলির মধ্যে রয়েছে ক্রমাগত হাঁচি, নাক জমাট বাঁধা, চোখ জল এবং লাল চোখ ইত্যাদি।

এলার্জিক রাইনাইটিস দুই মৌসুমী প্রকার – বছরের একটি নির্দিষ্ট সময়ে এলার্জিক রাইনাইটিসকে সিজনাল এলার্জিক রাইনাইটিস বলা হয়। পেরিনিয়াল অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বহুবর্ষজীবী অ্যালার্জিক রাইনাইটিসকে বহুবর্ষজীবী অ্যালার্জিক রাইনাইটিস বলা হয়।

এলার্জি প্রতিরোধের উপায় কি ?

যেহেতু এলার্জি বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায় যে, রক্ত সম্পর্কিত ধরনের রোগ হিসাবে কিন্তু প্রায় স্থায়ী হিসাবেই সকলের কাছে পরিচিত সেই ক্ষেত্রে এটাকে নিরাময়ের থেকে ভাল হয় প্রতিরোধ করা।

এলার্জি প্রতিরোধ করার জন্য বিভিন্ন রকমের উপায় আপনারা অবলম্বন করতে পারেন। আর সেগুলোর ভিতরে আছে এলার্জিজনিত খাবার খাওয়া যেমন –

  • বেগুন, গরুর মাংস, খাসির মাংস আর চিংড়ি মাছ এগুলো ভুলে ও খাওয়া যাবে না।
  • এসব কিছুর সাথে সাথে সব সময়ে আপনারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার চেষ্টা করবেন।
  • নাক আর মুখ ধুলা এবং আবর্জনা হতে দূরে রাখার চেষ্টা করবেন।
  • তবে হঠাৎ করেই কিন্তু অনেক বেশি যদি আপনাদের এলার্জি উঠে যায় তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকদের কাছ থেকে পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।
  • এলার্জির ঔষধ সেবন করার আগে আপনাদেরকে অবশ্যই নিকটস্থ কোনো চিকিৎসক এর কাছে গিয়ে তার কাছ থেকে সঠিক পরামর্শ নিতে হবে।

লক্ষণ আর উপসর্গ কি কি ?

মৌসুমি অ্যালার্জিক রাইনাইটিস-এর

  • ঘন ঘন হাঁচি হতে পারে।
  • নাক দিয়ে পানি পড়া শুরু হয়।
  • নাক বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
  • চোখের ভিতরে তীব্র ব্যথা অনুভব হতে পারে।

Leave a Comment