প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কোথায় হবে ?

প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা কোথায় হবে ?

২০১৯ সালের সার্কুলার হিসেবে ৩৪ হাজার ১০০  পদের বিপরীতে ২৪ লাখের চেয়েও বেশি চাকরি প্রত্যাশী আবেদন জমা দিয়েছেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে আসতে শুরু করেছে । এই পরিপেক্ষিতে ডিসেম্বর , ২০২১ এর মধ্যে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষাটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

করোনাভাইরাসের কারণে দীর্ঘদিনেও নেওয়া হয়নি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা। তবে করোনার সংক্রমণ কমে যাওয়ায় আগামী মাসে এ পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে বলে আলোচনা শুরু হয়েছে। শুরুতে এ পরীক্ষা শুধু ঢাকায় নেওয়ার কথা উল্লেখ করা হলেও এখন জেলায় জেলায় নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানাচ্ছে মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো।

এ নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। ঢাকার বাইরে প্রাথমিক নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হলে দুর্নীতি হতে পারে বলে চাকরিপ্রার্থীদের অনেকে মনে করছেন। তারা বলছেন , জেলায় পরীক্ষা হলে স্থানীয় অনেক নেতা এতে হস্তক্ষেপ করতে পারেন। ফলে পরীক্ষা নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে না ।

অতীতে জেলায় প্রাথমিক নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার সময় হস্তক্ষেপের অভিযোগ রয়েছে বলে চাকরিপ্রার্থীরা জানিয়েছেন। যদিও চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ জেলায় পরীক্ষা নেওয়ার পক্ষে। এতে তারা যাতায়াতের ভোগান্তি থেকে মুক্তি ও অর্থ সাশ্রয়ের কথা বলছেন।

মনির উদ্দিন নামে একজন চাকরিপ্রার্থী বলেন, “ঢাকার বাইরের অঞ্চলে প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা হলে তাতে অনেক নেতা প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে। এতে পরীক্ষা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এ জন্য ঢাকায়ই নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া উচিৎ। “

এদিকে রোববার বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ঢাকায় নয় জেলায় পরীক্ষা নেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর পক্ষে-বিপক্ষে ফেসবুককেন্দ্রীক বিভিন্ন চাকরির গ্রুপে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। যদিও এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি মন্ত্রণালয়।

রোববার রাতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মাহবুব তুহিদ বলেন , প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা জেলা পর্যায়ে নেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। সোমবার (২১ মার্চ) মিটিং হওয়ার কথা হয়। সেখানে কোনো প্রকার  সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে তা জানিয়ে দেওয়া হবে।

তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, প্রাথমিকের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা জেলা পর্যায়ে হওয়ার সম্ভবনা আছে। এ বিষয়ে মিটিংয়ে আলোচনা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক চাকরিপ্রার্থী বলেন , ‘ ঢাকায় পরীক্ষা হলে নানাভাবে তদারকির সুযোগ থাকে। ফলে অনিয়ম হওয়ার সম্ভাবনা কম। এ জন্য ঢাকায় পরীক্ষা হওয়া উচিৎ। “

আবার কেউ কেউ জেলায় পরীক্ষার কেন্দ্র করার পক্ষে মত নিচ্ছেন। চাকরিপ্রার্থী আরাফাতুল মামুর বলেন, ঢাকার পরীক্ষা হলে ভোগান্তি বাড়বে। এছাড়া পরীক্ষার কমপক্ষে একদিন আগে ঢাকায় চলে যেতে হবে। ফলে থাকা-খাওয়ার জন্য আলাদা অর্থ খরচ করতে হবে। সেই সঙ্গে যাতায়াত বাড়াতো আছেই। আর জেলায় পরীক্ষার কেন্দ্র হলে এসব খরচ অনেক কমে যাবে।

এর আগে অধিদপ্তরের কেন্দ্র বাছাই সংক্রান্ত দুটি চিঠিতে এপ্রিল মাসে পরীক্ষা শেষ করার কথা উল্লেখ করা হয়। যদিও ওই তারিখ নেয় বলে পরে জানানো হয়। জুলাইয়ের মধ্যে এই নিয়োগ শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রথমে বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা :

  • পুরস্কার থেকে কোন শিক্ষিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নূন্যতম দ্বিতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হতে হবে।
  • নারীদের ক্ষেত্রে নারী প্রার্থীদের ক্ষেত্রে উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় নূন্যতম দ্বিতীয় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হতে হবে।
  • বয়স ১৮ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত হতে হবে।
  • মুক্তিযোদ্ধা কোঠা বা প্রতিবন্ধী থাকলে এ বয়স ৩২ পর্যন্ত হয়ে থাকে।
  • লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। 

এক্ষেত্রে বিধিমালা ২০১৩ এর একটি বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল সরাসরি নিয়োগ যোগ্য পদগুলি ৬০% , মহিলা প্রার্থীদের দ্বারা ২০% , প্রতিবন্ধী প্রার্থীদের দ্বারা এবং বাকি ২০% পুরুষ প্রার্থীদের দ্বারা পূরণ করা হবে। 

এক নজরে প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পর্কে কিছু তথ্য :

 প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও ছাত্র ছাত্রী

  • বাংলাদেশের মোট প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৬৩ হাজার ৬০১টি।
  • সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ৩৭ হাজার ৬৭২ টি।
  • নতুন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ৬৩৪ টি।
  • নতুন জাতীয়করণকৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ২৫ হাজার ২৪০টি।
  • পরীক্ষণ বিদ্যালয় ৫৫ টি।
  • সহকারী শিক্ষকের সংখ্যা ৩ লাখ ২২ হাজার ৭৬৬ জন।
  • প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র ছাত্রী ২ কোটি ১৯ লক্ষ৩২ হাজার ৬৩৮ জন।
  • বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষক নিয়োগের সংখ্যা ১লক্ষ ৩০ হাজার ১০০ জন।
  • প্যানেলভুক্ত শিক্ষক সংখ্যা ৪২ হাজার ৬১১ জন।
  • প্যানেল হতে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকের সংখ্যা ৩২ হাজার ৯৬১ জন।
  • অবশিষ্ট প্যানেলভুক্ত শিক্ষক সংখ্যা ৭০০০ জন
  • প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষক  সৃজিত পদ সংখ্যা  ৩৭ হাজার ৬৭২ জন।
  • প্রাক-প্রাথমিক নিয়োগকৃত শিক্ষকের সংখ্যা  ৩৪ হাজার ৮৯৫ জন।

আপনার জন্য –

নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সর্বশেষ খবর

Leave a Comment